
সামি করিমের সঙ্গে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধুত্ব হয় মাহারশালার। পরে ২০১৩ সালে বিয়ে করেন তারা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ দম্পতি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তার নাম বারি নাজমা। মাহারশালা আলী ক্যালিফোর্নিয়ার সেইন্ট মেরি কলেজে ‘গণযোগাযোগ’ বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করেন। সেখানেই ‘স্পুংক’ নামে একটি মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া শেকস্পিয়র থিয়েটারে যোগ দেন। ২০০০ সালে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে অভিনয়ের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি করেন তিনি। পরে নেটফ্লিক্সের ‘হাউস অব কার্ডসে’ রেমি ড্যান্টন এবং ‘লুক কেইজে’ কর্নেল স্টোকস, দ্য হাংগার গেমস: মকিং জে পার্ট-১ ও ২ এ কর্নেল বোগাস এবং ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেনজামিন বাটনে’ টিজি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি।
২০১৬ সালে ‘মুনলাইট ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন মারশালা আলী। এজন্য গত ডিসেম্বরে তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ‘ক্রিটিক চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেন। অবশেষে ৮৯তম অস্কারও জয় করেন তিনি। এ সময় মাহেরশালা আলী তার বক্তৃতায় ইসলাম গ্রহণ এবং এ বিষয়ে তিনি ও তার মা কীভাবে পুনর্মিলিত হতে সক্ষম হন সে সম্পর্কে উপস্থিত দর্শকদের চমৎকারভাবে বর্ণনা করেন। অস্কার পরবর্তী তার বক্তৃতায় বর্তমান আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবেশের একটি প্রতিচ্ছবিই ফুটে ওঠে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মা একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পাদ্রী। আমি ১৭ বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। আমি যখন মাকে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানাই তখন তিনি আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। আমি তাকে দেখতে সক্ষম হয়েছি এবং তিনিও আমার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমাদের মা-ছেলের ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম হওয়ার পর আমার মা আমাকে দূরে ঠেলে দেননি। দিলে সম্পর্ক ভালো থাকত না। আমরা মা-ছেলেও ভালো থাকতাম না। বুকে টেনে নিয়েছেন বলেই আমরা উভয় সুখে আছি।’ তার এমন বক্তব্যে ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী নীতিরই সমালোচনা করা হয়। এর আগে ‘দ্য ফোর ফোর জিরো জিরো’, ‘ক্রসিং জর্ডান’ ইত্যাদি নামের বেশ কিছু টিভি সিরিজে অভিনয় করেন। বেশ কয়েক বছর টিভি তারকা হয়ে থাকলেও ২০০৮ সালে ‘দ্য কিউরিয়াস কেস অব বেনজামিন বাটন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। তবে বড় পর্দা তাকে এত বড় উপহার দেবে তা মাহেরশালা ভাবেননি কখনই। অস্কার পাওয়ার পর এমনটিই জানিয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে।