শরীয়তপুরে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলা, আহত ৭ (ভিডিও)

SHARE

https://www.facebook.com/share/v/1DfHNwX7FL/

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি), শরীয়তপুরের নড়িয়া প্রতিনিধি,শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩১ :

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু আলেম মাদবর এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত জুনায়েদের বাবা শাহ আলম ফরাজির সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাঁচটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে।

Advertisement

সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওয়ানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-বিলদেওয়ানিয়া গ্রামের জাবেদ আলী মাদবরের ছেলে রমজান মাদবর (৪০), আসমত আলী মুন্সীর ছেলে ফয়সাল মুন্সী (১৮), রিপন মাদবরের স্ত্রী হালিমা আক্তার (৩৫), রুহুল আমিন মাদবরের স্ত্রী দিনা বেগম (৫৫), আবু আলেম মাদবরের স্ত্রী সুইটি বেগম (৩৭), মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৮), তাবাসসুম (১১)। এদের মধ্যে আহত রমজান ও ফয়সালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওয়ানিয়া গ্রামের শাহ আলম ফরাজির ছেলে জুনায়েদ ফরাজি।

Advertisement

জুনায়েদ নিহতের ঘটনায় মামলার আসামি করা হয় শরীয়তপুরের রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু আলেম মাদবর, তার আপন ভাই আলমগীর মাদবর, চাচাতো ভাই ইকবাল মাদবর, কামাল মাদবর ও সোহেল মাদবরসহ অনেককে। আবু আলেম মাদবরের সঙ্গে শাহ আলম ফরাজির দীর্ঘদিন যাবত পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবর ও ইকবাল মাদবরের বাড়িতে হামলা চালান শাহ আলম ফরাজির লোকজন। পরে তাদের ঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে লুটপাট করা হয়। এরপর গোলাম হোসেন রনি, খোকন মাদবর শাহ আলম ফরাজির বাড়িতে হামলা চালায়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ সময় অন্তত সাতজন আহত হন। আহতরা চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবরের লোকজন।

চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবরের স্ত্রী সুইটি বেগম বলেন, ‘রোববার দিবাগত রাতে শাহ আলম ফরাজির লোক বাবু ফরাজি আমাদের বাড়ির সামনে বোম ফাটান। এ ছাড়া আমাদের বাড়ির পানির পাইপ কেটে দেন। পরে সোমবার ঈদের নামজ পরে শাহ আলম ফরাজির নেতৃত্বে ইব্রাহিম ফরাজি, শহজাহান ফরাজি, লোকমান ফরাজি, আসমত ফরাজি, জলিল মাদবরসহ ৮০/৯০ জন লোক আমাদের বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে ঘরের সব আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি ভাঙচুর করেন। নগদ টাকা ও ১২ থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান। যাওয়ার সময় ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।

Advertisement

এ ছাড়া আমাদের লোক ইকবাল মাদবরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ছাড়া গোলাম হোসেন রনি, খোকন মাদবরের বাড়িতে হামলা চালায়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। আমাদের লোকজন কারো বাড়িতে হামলা চালাননি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই হামলার সঠিক বিচার দাবি করছি।’