ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি),চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫ || চৈত্র ২১ ১৪৩১ :
চট্টগ্রামে গভীর রাতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা ধাওয়া করে প্রাইভেটকারে ব্রাশফায়ার করে দুজনকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহতরা হচ্ছেন-বখতেয়ার উদ্দিন মানিক ও মো. আবদুল্লাহ। তাদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন রবিন ও হৃদয়। বালুমহালের আধিপত্য বিস্তার এবং চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গত শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরায় বাকলিয়া এক্সেস রোডের মুখে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে মানিকের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ও আবদুল্লার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়। মানিক প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে ব্রাশফায়ারে দুজন নিহতের ঘটনায় বাকলিয়া থানায় ৭ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় একটি বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছিল দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এর মধ্যে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার ম্যাক্সনের নেতৃত্বে একটি প্রাইভেটকারে ছিল মানিক, আবদুল্লাহ, ইমন এবং রবিনসহ ৬ জন। ছোট সাজ্জাদের অনুসারী খোরশেদ হাসানের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপে ছিল হাসান, রায়হানসহ আরও কয়েকজন। তাদের কাছে ছিল ভারী অস্ত্রশস্ত্র। তারা ছিল মোটরসাইকেলে।
সূত্র জানায়, প্রাইভেটকারে থাকা গ্রুপটি আড়াইটার দিকে শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকা থেকে বহদ্দারহাটের দিকে রওয়ানা দেয়। তাদের পিছু নেয় ৫টি মোটরসাইকেলে আরোহী ৮ থেকে ১০ জন। রাজাখালী পার হতেই পেছন থেকে প্রাইভেটকারে গুলি করা শুরু করে মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা। গুলি করতে করতেই তারা বাকলিয়া এক্সেস রোডের দিকে ধাওয়া করে প্রাইভেটকারটিকে। প্রাইভেটকারটি এক্সেস রোড ধরে চন্দনপুরার প্রান্তে এলে সেখানেও গুলি করা হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি কয়েকজন বন্ধুসহ চন্দনপুরা মোড়ে চা পান করছিলেন। হঠাৎ দেখেন একটি বাইক থেকে তিনজন প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। এ সময় টহল পুলিশের একটি গাড়ি চলে এলে মোটরসাইকেল আরোহীরা গুলি থামিয়ে চলে যায়। প্রাইভেটকারটি পুলিশ দেখেই ওখানে থামানো হয়। পরে প্রাইভেটকারের কাছে গিয়ে দেখা যায় দুটি মৃতদেহ পড়ে আছে সিটে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহত দুজনের মধ্যে মানিক ছিলেন প্রাইভেটকারের চালক। আরেকজন আবদুল্লাহ। চকবাজার থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, নিহত দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলাকারী ও আক্রান্ত দুই গ্রুপই সন্ত্রাসী। বালুমহালের আধিপত্য নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাকলিয়ার রাজাখালী ব্রিজের দিক থেকে এক্সেস রোড অভিমুখী প্রাইভেটকারটিকে ধাওয়া করতে থাকে ৪-৫টি মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে ছিল। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে অনবরত গুলি ছুড়তে ছুড়তে কারটিকে ধাওয়া দেয়। এ সময় কারের আরোহীদের বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক হত্যা মামলার আসামি ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল সিএমপি পুলিশ। গত ১৬ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ছোট সাজ্জাদকে। এরপর সাজ্জাদের স্ত্রী ফেসবুক লাইভে এসে তার স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
দুই কারণে হত্যাকাণ্ড : পুলিশের ধারণা দুই কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক. চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ায় সারোয়ার ও একরাম নামে দুজনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সাজ্জাদের অনুসারীরা। দুই. সাজ্জাদের সঙ্গে সারোয়ারের আগে থেকে দ্বন্দ্ব ছিল। ৫ আগস্টের পর দুই পক্ষই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। তাই সাজ্জাদের লোকজন সারোয়ারকে খুন করতে এ হামলা চালাতে পারে।
Advertisement
হত্যা মামলা দায়ের : সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর বাকলিয়া থানায় নিহত বখতিয়ার হোসেন মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আসামিরা হলেন ছোট সাজ্জাদ, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, মোহাম্মদ হাছান, মোবারক হোসেন ইমন, খোরশেদ, রায়হান ও বোরহান। বাকলিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ব্রাশফায়ার করে হত্যার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৬-৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ!প্রাইভেটকারে ব্রাশফায়ার করে দুজনকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা