ঘন্টিবাদক থেকে সুপারস্টার নুসরাত ফারিয়া! (ভিডিও)

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ ২৪.কম (টিভি),বিনোদন  প্রতিনিধি,বুধবার   ০২ এপ্রিল ২০২৫ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩১ :

বর্তমানে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। ক্যারিয়ারে নানা মাধ্যমে কাজ করে সফল তিনি। তবে এ সাফল্য হঠাৎ করে জীবনে আসেনি। সে স্ট্রাগল জীবনের কথাই সম্প্রতি একটি শোতে অংশ নিয়ে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

Advertisement

নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমার জীবনে স্কুল একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহীদ আনোয়ার স্কুলে আমি যখন পড়তাম তখন আমি সবসময় সবাইকে শপথ পড়াতাম, জাতীয় সংগীত গাইতাম। ধীরে ধীরে আমি স্কুলের ফাংশনে নাচটাও করি। এসবে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। দেখা যায়, পড়াশুনার চেয়ে এক্সট্রা কারিকুলামে আমি বেশি সময় ব্যয় করছি। যে কারণে এসএসসিতে আমার একটা বিষয়ের জন্য গোল্ডেন এ প্লাসটা মিস হয়ে যায়।

 

নুসরাত আরও বলেন, শহীদ আনোয়ার স্কুল আমার কাছে খুব কমফোর্ট জোন ছিল। শিক্ষকরা সবাই খুব আদর করতেন। ক্লাশে দেরি করে গেলেও কিছু বলতেন না। তবে পড়াশুনায় বেশি মনোযোগ দিতে আমি রাজউকে ভর্তি হই।
 
এরপরই নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান ফারিয়া। বলেন, আমি ক্যান্টনমেন্টে বড় হয়েছি। সেখান থেকে ১ ঘন্টা বাসে জার্নি করে আমাকে রাজউকে যেতে হতো। ওই সময় আমার যাতায়াতের জন্য বাস ভাড়া, টিফিন, রাজউকের বেতন সব মিলিয়ে যে টাকা খরচ হতো তা অনেক বেশি ছিল। এই সময় সে টাকা খুব সামান্য হলেও মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা সে সময় খুব সেটা অনেক বড় খরচ।

Advertisement

ক্যারিয়ারে প্রবেশ করার কথা বলতে গিয়ে এ চিত্রনায়িকা বলেন, পড়াশুনার বড় খরচটা আমি আয় করতে টিউশনি শুরু করি। আমি স্কুল জীবনে বিতর্ক প্রতিযোগিতার সঙ্গে জড়িত থাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটা কাজের সুযোগ পাই। বিটিভিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতার জন্য আমাকে ঘন্টিবাদক হিসেবে রাখা হয়। সুতির শাড়ি পরে সিটে বসে থাকতাম। একজন বক্তার আড়াই মিনিট হলে একবার ঘন্টা বাজাতাম। আর তিন মিনিট হলে চূড়ান্ত ঘন্টা বাজাতাম। প্রতি শোয়ের জন্য ৫০০ টাকা করে দেয়া হতো। মাসে তিন থেকে চারটা শো হলেই সে টাকা দিয়ে কলেজের খরচ হয়ে যেতো।
 
পড়াশুনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গোছানো প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমি রাজউকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করতে ভর্তি হই। কিন্তু জীবনের সমস্যা থেকে আমি তখন বুঝতে শিখি, যদি ভালো উপায়ে টাকা অর্জন করতে হয় তাহলে পড়াশুনা দিয়ে কিছু হবে না। বরং নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য ভালো উপায় খুঁজে বের করতে হবে। তখন আমি আমার কথা বলার দক্ষতা আবিষ্কার করি। সে উপলব্ধি থেকেই রেডিও ফূর্তিতে আরজে হিসেবে যোগ দেই। সেখান থেকে ধীরে ধরে মডেলিং, উপস্থাপনা, নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ হয়।
 
 
সবশেষে ফারিয়া বলেন, আমি সব সময় নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলি যেন কোনো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চাইলে আমার ব্যক্তিজীবন থেকে গাইড লাইন নিতে পারে। আমার পরিবারের সবাই হিজাব পরে, কেউই এ পেশায় আসাটা প্রথমে মেনে নেয়নি। পড়াশুনা করাটা আমার পরিবারের প্রথম প্রাধান্য ছিল। সে সমস্যাগুলো ওভারকাম করে আমি কি করেছি? পরিবারের জন্য পড়াশুনা করার পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন পূরণেও কাজ করেছি। আমি মনে করি, সবারই নিজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়া উচিত।
 

Advertisement

 
এবারের ঈদে প্রেক্ষাগৃহে এসেছে জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন সিনেমা ‘জ্বীন থ্রি’। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত এ সিনেমায় প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ফারিয়া ও আবদুন নূর সজল। 
অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। ছবি: সংগৃহীত