বনানীর হোটেলে ২ তরুণীকে ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার

SHARE

ওয়ার্ল্ড ক্রাইম নিউজ বিডি ডট কম,নিজস্ব প্রতিনিধি,২০ মে : ধর্ষক সাফাত আহমেদের মোবাইল স্ক্যান করে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে শুক্রবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দুই তরুণীকে মাঝখানে পার্টিশন দেয়া দুই রুমে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পার্টিশনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন নিজের স্মার্টফোন দিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে বলে স্বীকার করেছে। পরে ভিডিও ক্লিপটি সে শেয়ারইটের মাধ্যমে সাফাতকে দেয়। সাফাত গ্রেফতার হওয়ার আগে ভিডিও ক্লিপটি তার ফোন থেকে মুছে দিয়েছিল। গোয়েন্দারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফাতের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ক্লিপটি উদ্ধার করেছেন।

এদিকে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষিত দুই শিক্ষার্থীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছে একটি চক্র।  এ নিয়ে ভিকটিমদের অভিযোগ, তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার পাশাপাশি মানসিকভাবে দুর্বল করতেই এসব ছবি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যেসব ছবি দুর্বৃত্তরা ছড়িয়ে দিচ্ছে তার মধ্যে অনেক ছবি তাদের নয়। ফটোশপে কারসাজি করে এসব বানানো। এ নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা করার কথা ভাবছেন তারা। ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, যারা দুই তরুণীর ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।